চন্দনাইশ প্রতিনিধি:
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার নানা অঙ্গীকারের মধ্যেই চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লট এলাহাবাদ এলাকায় রাতভর পাহাড় কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার লট এলাহাবাদ এলাকায় জব্বার চেয়ারম্যানের বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুলের পাশের কারিগরের ঘর সংলগ্ন ৩ নম্বর ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে পাহাড় কাটার কাজ শুরু হয়। এলাকাবাসীর দাবি, রাতের পর দিনের বেলাতেও কার্যক্রম চলতে থাকে। সংবাদ সংগ্রহের সময় ঘটনাস্থলে স্কেভেটর ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক ট্রাক দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাহাড়ের বড় একটি অংশ কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে এ ধরনের পাহাড় কাটা ভবিষ্যতে ভূমিধস ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
চট্টগ্রামে অতীতে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই করুণ স্মৃতি এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। এমন বাস্তবতার পরও পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকাকে শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন পরিবেশ সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, রাত ৩টা থেকে দিনের আলো পর্যন্ত স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা ও মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের মতো কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসেনি কীভাবে? প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষার শপথ নেওয়ার পরিবর্তে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ ওঠায় পরিবেশ দিবসের চেতনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, সভা-সেমিনার ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের চেয়ে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পাহাড় কাটা বন্ধ, ব্যবহৃত স্কেভেটর ও ট্রাক জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও ফৌজদারি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, একটি পাহাড় ধ্বংস হওয়া মানে শুধু কিছু মাটি হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য, জলধারণ ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ।
সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাটি খেকো চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসন আরও জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড এতটা বিস্তার লাভ করতে পারত না।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চন্দনাইশবাসীর একটাই প্রশ্ন—পাহাড় রক্ষার দায়িত্ব কার, আর সেই দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা সচেতন?
শিরোনামের বিকল্প:
বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই চন্দনাইশে পাহাড় কাটার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
রাতভর পাহাড় কাটার অভিযোগ চন্দনাইশে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পরিবেশ দিবসে পাহাড় নিধন! চন্দনাইশে স্কেভেটর-ট্রাকের দাপট
লট এলাহাবাদে পাহাড় কাটার অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চায় স্থানীয়রা
চন্দনাইশে পাহাড় কাটার অভিযোগে উত্তেজনা, তদন্তের দাবি পরিবেশবাদীদের
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আলী রাশেদ, চেয়ারম্যান : নিশিতা বড়ুয়া, পরিচালক : মুমতাহিনা মুমু
নিউজ নিমুরা প্রধান কার্যলয় : ফজল ভিলা, ৭৪৫/এ, শহীদ মির্জা লেইন, মেহদীবাগ, চট্টগ্রাম। মোবাইল : ০১৭৯৫৯৯৯১০৭
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত