মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রামঃ ইসলামে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা যেমন ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি তাঁর পবিত্র পরিবার আহলে বাইত এর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনও একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রতিদিন নামাজে এবং নামাজের বাইরে মুসলমানরা দরুদ পাঠের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা:) ও তাঁর পরিবারের জন্য রহমত কামনা করেন। এটি প্রমাণ করে ইসলামে আহলে বাইতের মর্যাদা কতটা উচ্চ।
হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যেগুলো দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব এবং অন্যটি আমার আহলে বাইত। এ দুটি কাওসারের পাড়ে আমার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত কখনো পৃথক হবে না।
এই হাদিসের আলোকে বহু ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেম ব্যাখ্যা করেছেন যে, কোরআনের শিক্ষা ধারণ করার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা:) এর পরিবারকে সম্মান করা, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করাও মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামের ইতিহাসে হজরত ফাতিমা (রা:), হজরত আলী (রা:), ইমাম হাসান (রা:) এবং ইমাম হুসাইন (রা:) বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তাঁদের ত্যাগ, ইবাদত, চরিত্র, ন্যায়পরায়ণতা এবং ইসলামের জন্য আত্মনিবেদন মুসলিম জাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।
আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা কেবল আবেগের বিষয় নয়, এটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ। বহু আলেম বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাঁর পরিবারকেও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়। তাঁদের সম্মান করা, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।
প্রতি বছর ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মাস মহররম ফিরে আসে, আর সঙ্গে ফিরে আসে কারবালার বেদনাবিধুর স্মৃতি। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা:) অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ মুসলিম ইতিহাসে এক অবিনশ্বর শিক্ষা হয়ে আছে।
কারবালার ঘটনা আমাদের শেখায় - সত্যের পথে থাকলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা যায় না।
মহানবী (সা:) বলেছেন - জালিম শাসকের সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ।
কারবালার শিক্ষা এই হাদিসের বাস্তব প্রতিচ্ছবি, যেখানে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের মুসলিম সমাজের জন্যও এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিভেদ, হিংসা, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং নৈতিকতা, সত্যবাদিতা ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোই কারবালার প্রকৃত বার্তা। আহলে বাইতের জীবন আমাদের শেখায় ধৈর্য, ত্যাগ, আত্মমর্যাদা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অবিচল থাকার শিক্ষা।
তাই আহলে বাইত এ রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ শুধু ইতিহাস স্মরণ নয়, বরং এটি একজন মুসলমানের ঈমানি চেতনার অংশ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে রাসুলুল্লাহ (সা:) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি গভীর মহব্বত, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করুন।
তাঁদের আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার শক্তি দান করুন আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আলী রাশেদ, চেয়ারম্যান : নিশিতা বড়ুয়া, পরিচালক : মুমতাহিনা মুমু
নিউজ নিমুরা প্রধান কার্যলয় : ফজল ভিলা, ৭৪৫/এ, শহীদ মির্জা লেইন, মেহদীবাগ, চট্টগ্রাম। মোবাইল : ০১৭৯৫৯৯৯১০৭
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত