মো: জাহাঙ্গীর আলম : কোরবানির পশুর চামড়ার দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকায় গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বৃদ্ধি পেলেও বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রতি পিস গরুর চামড়া গত বছরের তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কিনতেও ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি, ফলে অনেক স্থানে চামড়া বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েন সংগ্রহকারীরা।
চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী আবুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৫-৩০ বছর আগে একটি গরুর চামড়া ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। বর্তমানে একই ধরনের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। এই দামে শ্রমিকের খরচও ওঠে না। এভাবে চললে এই খাত টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
একই ধরনের অভিযোগ তুলে আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, চামড়ার তৈরি জুতা বা অন্যান্য পণ্যের দাম তো কমেনি। তাহলে কাঁচা চামড়ার দাম এত কম কেন ? এখানে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে, অথবা পরিকল্পিতভাবে এই শিল্পকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিবছর সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দাম কার্যকর করার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা থাকে না। ফলে কোরবানির চামড়া থেকে যে আর্থিক সুবিধা এতিমখানা, মাদ্রাসা ও সাধারণ মানুষ পাওয়ার কথা, তার বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছে ট্যানারি মালিকপক্ষ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, প্রতি বছরই কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা ভালো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় চামড়া কেনা হয়েছে। এর সঙ্গে লবণ ও আড়তের খরচ যোগ করলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের মধ্যেই পড়ে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির চামড়া খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শুধু মূল্য নির্ধারণ নয়, মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন, বাজার তদারকি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরিব মানুষ, এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।