
নিশিতা বড়ুয়া, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধার করা লক্ষাধিক টাকা পরিশোধ এড়াতে এবং ঋণসংক্রান্ত হলফনামার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি নিহত পরিবারের কাছ থেকে অটোরিকশা কেনার জন্য দুই দফায় প্রায় সোয়া লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
গত শনিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়া পাড়ায় নিহত হন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। ঘটনার পরদিন রোববার রাতে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তাকে আটকের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে জানা যায়, নিহত সুজন বড়ুয়ার ঋণসংক্রান্ত কিছু স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া একটি ছুরি নিয়ে বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিলেন। এ সময় এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে তাকে দেখে ফেললে চিৎকার শুরু করেন। তখন অভিযুক্ত তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।