বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদুল আযহায় চট্টগ্রাম নগরে বর্জ্য অপসারণে ১৪০ ট্রাক, মাঠে থাকবে ৩১০০ পরিচ্ছন্নকর্মী চট্টগ্রামে Legend Foundation-এর উদ্যোগে SSC কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও ক্যারিয়ার নির্দেশন চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাজেম উদ্দীনের Renth অ্যাপ কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পূর্ব নাছিরাবাদে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল চট্টগ্রামের বাজারে দেড় শ কেজির কোরাল, দাম প্রায় আড়াই লাখ সাতকানিয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে মাহবুবুর রহমানের ত্রাণ বিতরণ চট্টগ্রামের চোরা মার্কেট, ফুটপাত দখলে চোরাই পণ্যের প্রকাশ্য বেচাকেনা, ভোগান্তিতে নগরবাসী মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ চট্টগ্রাম ওয়াসায় ২৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি, শেষ হলো ১৩-২০ বছরের অপেক্ষা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পটিয়া প্রেস ক্লাব থেকে নুর হোসেনের সদস্যপদ বাতিল আইআইইউসি ক্যাম্পাসে ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরি, রংপুর থেকে গ্রেপ্তার নিরাপত্তাকর্মী

চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাজেম উদ্দীনের Renth অ্যাপ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

নিউজ নিমুরা চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: নিজের কম্পিউটার কেনার অর্থ জোগাড় করতে করেছেন টিউশনি, এমনকি কাজ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতেও। সেই কম্পিউটার দিয়েই শুরু—আজ মানুষের জীবন সহজ করার স্বপ্নে তৈরি করেছেন Renth অ্যাপ।

স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না। তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কখনো কখনো পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ, কঠিন এবং কষ্টের পথ। আর সেই পথ পাড়ি দেওয়ার গল্পই যেন চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাজেম উদ্দীনের।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা নাজেম পরিবারের তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ছিল তার আলাদা আগ্রহ। কিন্তু স্বপ্ন থাকলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিবারের কাছ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ তার ছিল না।

তবুও থেমে যাননি তিনি।

নিজের কম্পিউটার কেনার জন্য শুরু হয় সংগ্রাম

২০১৮ সালে বৈলছড়ী নজমুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে উত্তর কাট্রলী আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন নাজেম। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন।

নাজেমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২০ সাল থেকেই সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তখন তার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল একটি কম্পিউটার।

পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় নিজের স্বপ্নের জন্য নিজেকেই অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। টিউশনি করিয়েছেন, পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িতে চাকরিও করেছেন দীর্ঘ ৫ মাস । ধীরে ধীরে টাকা জমিয়ে অবশেষে একটি কম্পিউটার কেনেন তিনি।

সেই কম্পিউটারই হয়ে ওঠে তার স্বপ্নের প্রথম হাতিয়ার।

একটি সাধারণ কম্পিউটার থেকে শুরু হয় তার সাইবার সিকিউরিটি শেখার যাত্রা। প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা আর নানা সংগ্রামের মধ্যেও তিনি নিজের দক্ষতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যান।

সাইবার সিকিউরিটি থেকে নতুন একটি স্বপ্ন

সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করতে করতেই একসময় নাজেমের মনে নতুন একটি চিন্তার জন্ম হয়।

তিনি ভাবতে শুরু করেন—

প্রযুক্তি শুধু নিজের ক্যারিয়ার তৈরির জন্য নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার জন্যও ব্যবহার করা যায়।

সেখান থেকেই আসে একটি বড় পরিকল্পনা—এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে মানুষের বিভিন্ন ধরনের ভাড়া ও আবাসন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে পূরণ করা সম্ভব হবে।

দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রায় দুই বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ হিসেবে তৈরি হয় Renth অ্যাপ।

এক অ্যাপে ছয় ধরনের সেবা

Renth-এর লক্ষ্য হলো ভাড়া, আবাসন ও সংশ্লিষ্ট কিছু সেবাকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা।

অ্যাপটিতে রয়েছে—

🏠 ফ্যামিলি বাসা ভাড়া

🏠 ব্যাচেলর বাসা ভাড়া

🏨 হোটেল বুকিং

🛏️ হোস্টেল বুকিং

🏢 ফ্ল্যাট কেনাবেচা

🚗 রাইড শেয়ারিং / রেন্ট-এ-কার

নাজেমের স্বপ্ন শুধু একটি অ্যাপ তৈরি করেই থেমে যাওয়া নয়। তিনি চান, সময়ের সঙ্গে Renth-কে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে।

নাজেম বলেন “আমি শুধু নিজের জন্য কিছু করতে চাই না”

আমার স্বপ্নের অন্যতম বড় অংশ হলো কর্মসংস্থান তৈরি করা।

তার বিশ্বাস, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে বড় পরিসরে পরিচালিত হলে এর সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার ভাষায়, তার স্বপ্ন এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেটি মানুষের সময় বাঁচাবে, দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করবে এবং একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

শুরুটা কঠিন ছিল, স্বপ্নটা এখনো অনেক বড়

নাজেমের গল্পটি শুধু একটি অ্যাপ তৈরির গল্প নয়। এটি সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

যে তরুণকে নিজের প্রথম কম্পিউটার কেনার অর্থের জন্য টিউশনি করতে হয়েছে, কাজ করতে হয়েছে—সেই তরুণই আজ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে লাখো মানুষের জীবন সহজ করার স্বপ্ন দেখছেন।

তার পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। Renth-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও অনেক বড়। কিন্তু তার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হয়তো এখানেই—

সুযোগের অপেক্ষায় না থেকে, নিজের সুযোগ নিজেই তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

চট্টগ্রামের মাটি থেকে শুরু হওয়া এই তরুণের স্বপ্ন এখন শুধু একটি অ্যাপকে ঘিরে নয়; বরং একটি বৃহৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার।

Renth-এর মাধ্যমে মানুষের জীবন সহজ করা, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং একদিন বাংলাদেশি একটি প্রযুক্তি উদ্যোগকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়াই এখন মোহাম্মদ নাজেম উদ্দীনের বড় স্বপ্ন।

একটি কম্পিউটার দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রা কোথায় গিয়ে থামে—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews