
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১ নম্বর চরতী ইউনিয়নের পরিচিত সমাজকর্মী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ সোহেল সিকদার। নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। আর্তমানবতার সেবায় তাঁর নিঃস্বার্থ ভূমিকা এলাকায় তাঁকে পরিচিত করে তুলেছে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে।
সুনামধন্য আলেম পরিবারের সন্তান মুহাম্মদ সোহেল সিকদার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪ সালে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন তিনি। ত্রাণ কার্যক্রম শেষে চট্টগ্রামে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালের শয্যায় কাটাতে হয় তাঁকে।
তাঁর দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাতকানিয়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁকে একনজর দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান হাজারো মানুষ। তাঁর সুস্থতা কামনায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মসজিদ, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন এলাকাবাসী।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। পরবর্তী সময়েও তিনি সোহেল সিকদারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি সোহেল সিকদার। তবে শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কষ্ট তাঁর মানবিক চেতনাকে ম্লান করতে পারেনি। লোভ-লালসা ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই যেন তাঁর জীবনের অন্যতম অঙ্গীকার। নিজের কষ্ট ভুলে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন এই মানবিক সমাজ।
Oplus_16908288